logo



আমার নেটওয়ার্ক



অনলাইনে আছেন

আমাদের সাথে আছেন ৮ জন অতিথী
অনলাইনে আছেন ১ জন সদস্য
মো: আবুল কালাম আজাদ
  

জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ মিথ্যা !

লিখেছেন : মো: সোহেল রানা       তারিখ: ২৯-০৭-২০১০

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চার শীর্ষ নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে আলবদর, আলশামস ও রাজাকার বাহিনী গঠন করে তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, যুদ্ধাপরাধ, মানবতা ও শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধসহ হত্যাযজ্ঞ চালানোর যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা মোটেই সত্য নয়। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জামায়াত নেতাদের রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করার হীন
উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ করা হয়েছে। তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে তথাকথিত বিচারের নামে একটি সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করতে যাচ্ছে। তিনি মিথ্যা মামলায় জামায়াতের শীর্ষ ৫ নেতাসহ জামায়াত-শিবিরের ৩ সহস্রাধিক নেতাকর্মীর গ্রেফতার, রিমান্ডের নামে নির্যাতন ও হয়রানির প্রতিবাদ জানান। এছাড়া নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে দলের পক্ষে আজ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী ৭ দিনের ৪ দফা প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
গতকাল বিকালে মগবাজারের জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. তাসনীম আলম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আজাদ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা এটিএম মাসুম, অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল ও মাওলানা আবদুল হালিম।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজাকার (আলবদর, আলশামস) বাহিনী গঠন করা হয়েছিল তত্কালীন পাকিস্তান সরকারের কেবিনেট সেক্রেটারি গোলাম ইসহাক খানের জারিকৃত একটি অধ্যাদেশের অধীনে। এ বাহিনীতে লোক নিয়োগ করা হয়েছিল স্থানীয় প্রশাসনের সিও, ওসি, পৌরসভার চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের তত্ত্বাবধানে হাটবাজারে ঢোল দিয়ে। আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্য থেকে লোক বাছাই করে তাদের নিয়োগের জন্য সিও এবং ওসি, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপার বরাবর সুপারিশ করেছিল। এ বাহিনী গঠনের সঙ্গে জামায়াত এবং ইসলামী ছাত্রসংঘের কোনো সম্পর্ক ছিল না। প্রকাশিত সরকারি গেজেটে রাজাকার (আলবদর, আলশামস) বাহিনীর সদস্য হিসেবে তালিকায় যেসব লোকের নাম আছে তাতে জামায়াত নেতাদের কারও নাম নেই। জামায়াত নেতাদের কেউ ওইসব বাহিনীর কমান্ডার হওয়া তো দূরের কথা সাধারণ সদস্যও ছিলেন না। ওই বাহিনী গঠিত হয়েছিল পাকিস্তান সরকারের উদ্যোগে এবং পরিচালিত হয়েছিল সরকারেরই নিয়ন্ত্রণে। কাজেই সেই সময় সংঘটিত কোনো অন্যায় কাজের জন্য জামায়াত নেতাদের দায়ী করার কোনো যুক্তি নেই। ওই সময় সংঘটিত কোনো অন্যায় কাজের জন্য জামায়াত নেতাদের দায়ী করা প্রকৃতপক্ষে তাদের ওপর বড় ধরনের জুলুম ও অবিচার। তিনি বলেন, আসলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি একটি মীমাংসিত বিষয়।
১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি দালাল আইনের মাধ্যমে যে ৭৫২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাদের মধ্যে জামায়াত নেতাদের কেউ ছিলেন না। ১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরে অভিযুক্তদের মধ্যে যারা সাধারণ ক্ষমার আওতায় পড়ে এমন সবাই মুক্তি লাভ করেন। হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের ক্ষেত্রে সাধারণ ক্ষমা প্রযোজ্য ছিল না। জামায়াতের কোনো লোকই ওই চারটি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি বলেন, একটি মহল পুরনো সংবাদপত্রের কাটিং, গল্পের বই, ঘটনার ৩৯ বছর পরে পরিকল্পিতভাবে নিজেদের তৈরি করা ভিডিওচিত্রের ভিত্তিতে জামায়াত নেতাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিহিত করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কোনো দেশের আদালতে এগুলোকে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গণ্য করা হয় না। আমাদের দেশের প্রচলিত আইনেও এগুলোকে আদালতে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গণ্য করা হয় না।
জামায়াত নেতা বলেন, কথিত যু্দ্ধাপরাধ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিচারের যে প্রক্রিয়া দেশবাসী লক্ষ্য করছে তাতে মনে হচ্ছে ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ, সরকারি কৌঁসলি, বাদী, সাক্ষী সবাই একই সূত্রে গাঁথা এবং তাদের জামায়াতবিদ্বেষী মহল থেকেই বাছাই করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির ফলে মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে। সরকারি দলের ছাত্রদের হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, গ্যাস, বিদ্যুত্, পানি সঙ্কট, যানজটে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে যে ৪ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—জামায়াতের শীর্ষ ৫ নেতাসহ বিরোধী দলের সব নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে ২৯ জুলাই সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ, ৩০ জুলাই দোয়া দিবস পালন, ৪, ৫ ও ৬ আগস্ট সারাদেশে সমাবেশ ও গণসংযোগ এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদ এবং গ্যাস, বিদ্যুত্, পানি ও রমজানের পবিত্রতা রক্ষার দাবিতে ৮ ও ১০ আগস্ট সমাবেশ এবং মিছিল।

২০ বার পঠিত

 
মন্তব্য করতে লগিন করুন।