logo



আমার লেখালেখি



আমার প্রিয় লেখা



আমার ছবিঘর



অনলাইনে আছেন

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর নতুন বন্ধু নাজমুল


আমাদের সাথে আছেন ৫৬ জন অতিথী
  

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর অনলাইন ডায়েরী

আপনাদের সকলের উপর আল্লাহর শান্তি, রহমত এবং বরকত বর্ষিত হোক

ডায়েরী লিখছেন ৭ বছর ৯ মাস ২৪ দিন
মোট পোষ্ট ৬১টি, মন্তব্য করেছেন ১৫৪টি


পাঁচ মাসে ১৪ নারীর আত্মহত্যা

লিখেছেন : আব্দুল্লাহ-আল-নোমান       তারিখ: ১৯-০৫-২০১০



‘ওদের অপমান একজন মেয়েকে রাস্তায় ফেলে রেপ করার চেয়েও নির্মম।’ নারায়ণগঞ্জের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্রী সিমি বানু আত্মহত্যার আগে চিরকুটে এ কথা লিখে তাঁর মৃত্যুর জন্য পাঁচ বখাটের নাম লিখে যান।
২০০১ সালে সিমি বানু এবং এরপর ছাত্রী ও বিভিন্ন বয়সী নারী বখাটেপনার কারণে একের পর এক আত্মহত্যা করছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে ওঠে সামাজিক আন্দোলন। কিন্তু একদিকে চলছে আন্দোলন, অন্যদিকে বখাটেপনার কারণে তৃষা, পিংকি, ইলোরার মতো অনেকেই আত্মহত্যা করেছেন।
আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, শুধু ইভ টিজিং বা উত্ত্যক্ততার কারণে জানুয়ারি থেকে ১৬ মে পর্যন্ত আত্মহত্যা করেছেন ১৪ নারী। মেয়ের অপমান সহ্য করতে না পেরে একজন বাবাও আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এ সময় ইভ টিজিংয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন ১৮ নারী। এ ঘটনার জের ধরে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করা এবং বিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো ঘটছে অহরহ।
সাম্প্রতিক সময়ে ইভ টিজিংবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ। বিভিন্ন জায়গায় ইভ টিজিং বিষয়ে জোরালো প্রতিবাদও গড়ে উঠেছে। স্কুলের শিক্ষার্থীরা বখাটেদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল বের করেছে। বখাটেদের কান ধরে ওঠবস করার ছবিও সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩ জুন বিশেষ দিবস পালনের মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া গত এক মাসে প্রায় প্রতিদিনই এ বিষয়ে সভা-সমাবেশ, সেমিনার, মানববন্ধন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মেয়েদের বিদ্যালয়ের সামনে সাদা পোশাকে পুলিশ রাখা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় সম্প্রতি মহিলা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রওশন আরা বেগম বলেন, ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে উত্ত্যক্ততার ঘটনা বেড়েছে আড়াই গুণ। এ কারণে আত্মহত্যার ঘটনাও বেড়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ প্রসঙ্গে বলেন, সমাজে ইভ টিজিংয়ের বিরূপ প্রভাব পড়ছে। মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। অনেক সময় পরিবার ও সমাজ ইভ টিজিংয়ের দায়দায়িত্ব নিচ্ছে না, সব দায় গিয়ে পড়ছে মেয়েটির ওপর। ফলে অনেকে আত্মহত্যা করতেও বাধ্য হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান যেসব আইন আছে তাতে ফাঁকফোকর থাকলে সরকার প্রয়োজনে নতুন আইন তৈরি করবে।
জানা যায়, প্রচলিত আইনের কোথাও উত্ত্যক্ততা বা ইভ টিজিং শব্দের উল্লেখ বা এর সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নেই। তবে, উত্ত্যক্ততা-সংক্রান্ত কার্যাবলিকে বিভিন্ন আইনে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বখাটেদের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের চিন্তা করছে সরকার।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, প্রচলিত ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি আইনের ৫০৯ ধারাসহ বিভিন্ন আইনে ইভ টিজিংয়ের বিষয়টি এসেছে। তবে এসব আইনে শাস্তির পরিমাণ অনেক কম। সে ক্ষেত্রে এসব ধারায় সংশোধন আনা অথবা নতুন আইন প্রণয়ন প্রয়োজন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী প্রথম আলোকে জানান, আইন কমিশন ইভ টিজিংকে গুরুত্ব দিয়ে আলাদাভাবে আইন তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। মহিলা আইনজীবী সমিতি এ বিষয়ে আইনের খসড়া আইন কমিশনে জমা দিয়েছে এবং এটার ওপর বিভিন্ন পর্যায়ে মতবিনিময় চলছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ গতকাল মঙ্গলবার আইন ও সালিশ কেন্দ্র আয়োজিত আলোচনা সভায় বলেন, শুধু আইন করলেই ইভ টিজিংয়ের মতো মারাত্মক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে না। কেননা দেশে অনেক আইন আছে। আইনের প্রয়োগ নিয়েও সবার মধ্যে প্রশ্ন আছে। তাই এ ধরনের সমস্যা সমাধানে আইনের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বাড়ানো ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
সাক্ষীর অভাব, ঘটনা প্রমাণ করাসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুক্তভোগী নারীরা দণ্ডবিধি আইনের আশ্রয় নেন না। ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০(২) ধারায় যৌনপীড়ন হিসেবে বিবেচেনা করে উত্ত্যক্ততার বিষয়টি উল্লেখ করা হয় এবং শাস্তির বিধান রাখা হয়। কিন্তু আইনটির অপব্যবহার ও মিথ্যা মামলা দায়েরের অজুহাতে ২০০৩ সালের সংশোধনীতে ১০(২) ধারাটিকে সম্পূর্ণ তুলে দিয়ে কিছু সংশোধনী আনা হয়। সংশোধিত আইনে কেবল ২০০০ সালের আইনের ১০ ধারাটি প্রতিস্থাপন করা হয়। এই ধারায় যদি কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে তাঁর যৌন কামনা চরিতার্থের উদ্দেশ্যে তাঁর শরীরের যেকোনো অঙ্গ বা কোনো বস্তু দিয়ে কোনো নারী বা শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোনো অঙ্গ স্পর্শ করেন বা কোনো নারীর শ্লীলতাহানি করেন, তাহলে তাঁর এই কাজ হবে যৌনপীড়ন এবং সে জন্য ওই ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর কিংবা সর্বনিম্ন তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত কিংবা একই সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।
জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপপরিচালক কোহিনূর বেগম বলেন, আইনে অবৈধভাবে নারীর শরীর স্পর্শ করলেই কেবল তা যৌনপীড়ন অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। স্পর্শ ছাড়াও মৌখিকভাবে বা অশালীন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে উত্ত্যক্ততার বা নির্যাতনের বিষয়টি একেবারেই উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র: প্রথম আলো

৩১২৩ বার পঠিত

 
মন্তব্য করতে লগিন করুন।
  

সাম্প্রতিক মন্তব্য







ছবিঘরের নতুন ছবি