logo



আমার লেখালেখি



আমার প্রিয় লেখা



আমার ছবিঘর



অনলাইনে আছেন

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর নতুন বন্ধু নাজমুল


আমাদের সাথে আছেন ৭০ জন অতিথী
  

আব্দুল্লাহ-আল-নোমান এর অনলাইন ডায়েরী

আপনাদের সকলের উপর আল্লাহর শান্তি, রহমত এবং বরকত বর্ষিত হোক

ডায়েরী লিখছেন ৭ বছর ১১ মাস ২৯ দিন
মোট পোষ্ট ৬১টি, মন্তব্য করেছেন ১৫৪টি


ফলোআপ প্রশিক্ষণে ৮৩ জনের ৫৬ জনই ভূঁয়া

লিখেছেন : আব্দুল্লাহ-আল-নোমান       তারিখ: ২৭-০৫-২০১০



রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রধান শিক্ষকদের ফলোআপ ট্রেনিংয়ে ৮৩ জনের মধ্যে ৫৬ জন ভূঁয়া প্রধান শিক্ষককে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভূঁয়া স্কুলের নাম দেখিয়ে তারা এই ট্রেনিংয়ে অংশ নিয়ে সরকারী টাকা আত্মসাৎ করতে গেলে বিষয়টি ধরা পড়ে। এঘটনা তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ ।

জানাগেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের টিচিং কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে ২১দিনের প্রশিক্ষণ শেষে দ্বিতীয় দফায় গত শনিবার শুরু হয় ৩৬তম ব্যাচের ৬ দিনব্যাপি ফলোআপ প্রশিক্ষণ । এতে অংশ নেয়ার কথা রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলার বিভিন্ন স্কুলের ৮৩ জন প্রধান শিক্ষকের। সম্মানী হিসেবে প্রতিজন পাবেন প্রায় সাড়ে ৩হাজার টাকা করে। কিন্তু অংশ নেয়া বেশ কিছূ প্রশিক্ষণার্থীর চলাফেরা, অসংলগ্ন আচরণ ও ক্লাসে অনভিজ্ঞতায় অন্যদের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি করে। বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার ৮৩ জনের মধ্যে ৫৬ জনকেই ভূঁয়া শিক্ষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তারা বিভিন্ন জেলার ভূঁয়া স্কুলের নামে প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের বিচার দাবি করে ক্লাস বর্জন করেন প্রকৃত শিক্ষকরা। এসময় ভবনের মূলফটক বন্ধ করে দেয়া হয়।

দিনাজপুর থেকে আসা আব্দুল হাকিম জানান, আমরা যখন ডাইনিংয়ে খেতে যাই তখন দেখি, খাবার নেই। নির্দিষ্টস্থানে রাখা খাবার না নিয়ে আমাদের সামনে খাকা খাবার টেনে নেয়। এছাড়া, ক্লাসে তারা কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দিতে পারতো না। এমন কী তারা কোন ট্রেনিংয়ে এসেছেন তাও জানতেন না।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সিরাজপুর গ্রামের রইসুদ্দিনের ছেলে সুমন জালিয়াতির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাদের এলাকায় এর আগে যারা ট্রেনিং করেছে তাদের মাধ্যমেই হান্নানের সঙ্গে পরিচয়। তাকে আমি ১৩শ টাকা দিয়েছিলাম। হান্নানই সিরাজপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভুঁয়া প্যাড তৈরি করে আমাকে এখানে আসতে বলেছে। নীলফামারীর বড়ইগ্রাম থেকে আসা হাবীবও একইভাবে হান্নানকে দেড় হাজার টাকা দিয়েছেন।

অভিযুক্ত ভূঁয়া স্কুলের শিক্ষকরা জানান, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কর্মচারী আব্দুল হান্নান নিজেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকার বিনিময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহসহ প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

এদিকে, জালিয়াতির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছে কর্মচারী আব্দুল হান্নান। তবে, ইনস্টিটিউটের কর্মচারীদের অভিযোগ, এই জালিয়াতির ঘটনার সঙ্গে শুধু আব্দুল হান্নানই নয় কিছু কর্মকর্তাও জড়িত রয়েছেন। তবে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক শামসুজ্জোহা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।

গতকাল বেলা ১১টার দিকে এঘটনা আনাজানি হলে সাংবাদিকরা ছুটে যান সেখানে। সাংবাদিবকরা পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করলে সহকারী পরিচালক শামসুজ্জোহা ও সিরাজুম মনিরা দারোয়ানকে মূলফটক খুলে দেয়ার নির্ধেশ দেন। ফলে বিনা বাঁধায় অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। এদিকে, এরপর শামসুজ্জোহা পরিচালকের কক্ষে গিয়ে টেলিফোনে রাজপাড়া থানা পুলিশকে আসার জন্য অনুরোধ জানান। এঘটনায় প্রশিক্ষণার্থী ও কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ইনস্টিটিউটের অডিও ভিজ্যুয়াল টেকনিশিয়ান মীর সাজ্জাদ আলম জানান, ক্লাসে ব্যবহারের জন্য প্রকল্প থেকে দেয় ২৯ইঞ্চি রঙিন টেলিশিনটি পরিচালক তাঁর বাসায় নিয়ে ব্যবহার করছেন। ফলে প্রশিক্ষণার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে, কর্মকর্তাদের জালিয়াতির সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. স্বপন কুমার দত্ত বলেছেন, ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কর্মচারী আব্দুল হান্নানকে ধরতে পারলে আসল তথ্য জানা যাবে । তদন্ত কমিটিতে রয়েছে, অতিরিক্ত পরিচালক ড. সেলিনা আফরোজ, উপ-পরিচালক ড. ইব্রাহিম ও সহকারী পরিচালক ইসারুল ইসলাম।

টিভি বাসায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বলেন, ওটি নষ্ট হয়েছিল, আমি ঠিকঠাক করে এমনিতেই নিয়ে গেছি। তাছাড়া, বাসাতেও তো আমার অফিস সেখানে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যায়। কোনো অসুবিধা নেই। তবে টিভিটি তিনি ফেরত দিয়ে দিবেন বলে জানান।

বাঘা উপজেলার বলিহার নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেজে প্রশিক্ষণে অংশ নেন, ওই এলাকার কামারুজ্জামান। কিন্তু রাজশাহী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এই নামে কোনো স্কুলই নেই। নওগাঁর সিরাজপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামেও কোনো স্কুল নেই। আবেদনপত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমন ভূঁয়া স্কুলের নাম ব্যবহার ও প্রধান শিক্ষক পরিচয় দেয়া হয়েছে। তবে, ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড.স্বপন কুমার দত্ত ও পরিচালক সহকারী পরিচালক শামসুজ্জোহা দাবি করেছেন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দেয়া তালিকা অনুযায়ীই শিক্ষকরাই এখানে সুযোগ পেয়েছেন। তাদের এখানে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেনি। তবে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ড. সাধন কুমার বিশ্বাস জানান, এই ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের কোনো তালিকাই দেননি তারা।

২৯৬৩ বার পঠিত

 
মন্তব্য করতে লগিন করুন।
  

সাম্প্রতিক মন্তব্য







ছবিঘরের নতুন ছবি