logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo সড়ক দুর্ঘটনাই গেলো বছর প্রাণ হারিয়েছে ৮ হাজার ৫৮৯ জন
সড়ক পথে ৫ হাজার ৬২৮ দুর্ঘটনায় গেলো বছর প্রাণ হারিয়েছে ৮ হাজার ৫৮৯ জন ॥ আহত সাড়ে ১৭ হাজার।

কোনভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না সড়ক পথের দুর্ঘটনা। প্রতিদিনই দেশের কোন না কোন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। আহত হচ্ছে অনেকে। আবার কেউ সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়েছে। এদের নিদারুণ কষ্টে কাটছে জীবন। এসব দুর্ঘটনায় বেশিরভাগ পরিবার একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে দারিদ্র্যের কাতারে নেমে এসেছে। সর্বশেষ বুধবার গভীর রাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা এলাকায় বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২৫ জন।

সূত্র জানায়, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ বা মামলা করেও ভিকটিম প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা পায় না। এমনকি পায় না যথাযথ ক্ষতিপূরণ। দুর্ঘটনায় পতিত ব্যক্তির পাশে দাঁড়াতে চায় না বিত্তবানরাও ।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনার উপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৪ সালে সারা দেশে ৫ হাজার ৬২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ হাজার ৫৮৯ জন নিহত ও ১৭ হাজার ৫২৪ জন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতের বেশীর ভাগই কর্মক্ষমতা হারিয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ বছরে ৫,৯২৮টি ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এতে সর্বমোট ২৬,১১২ জন যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৮,৫৮৯ জন, আহত হয়েছে ১৭,৫২৩ জন। এর মধ্যে হাত-পা বা অন্য কোন অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়েছে ১,৬২৩ জন।

সূত্র জানায়, সরকারি হিসাবে একই সময়ে প্রায় ২,৩০০টি সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ সময় ১,২৬৬টি বাস, ১৪১৩টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৭১২টি হিউম্যান হলার, ৩৯০টি কার-জিপ-মাইক্রোবাস, ১,২৩১টি অটোরিক্সা ১,৪৬৮টি মোটরসাইকেল ১,১৭৩টি ব্যাটারী চালিত রিকশা ১,০৬৯টি নছিমন করিমন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এক বছরে ১২৫৬ জন ছাত্র-ছাত্রী, ১৫৬ জন শিক্ষক, ৬৮ জন সাংবাদিক, ৬৩ জন ডাক্তার, ৯০ জন আইনজীবী, ৬৩ জন ইঞ্জিনিয়ার, ২১৫ জন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য (পুলিশ, সেনা, বিজিবি ও আনসার), ৯৯১ জন নেতাকর্মী, ১৪২ জন সরকারি কর্মকর্তা ২,২২২ জন নারী ও ১,৪৬৯ শিশু সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে ৫৮৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮৪২ জন আহত ও ৬১৫ নিহত হয়। এ মাসে ৮০টি বাস, ১৪৫টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৪৮টি হিউম্যান হলার, ১৮ কার মাইক্রোবাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
ফেব্রুয়ারি মাসে ৪৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। এতে ১২৭২ জন আহত ও ৫৩৯ জন নিহত হয়। এই মাসে ১৫৬টি বাস, ৬২টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৮৫ হিউম্যান হলার দুর্ঘটনায় কবলিত হয়।

মার্চের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ৫৪৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭০৬ জন আহত ৫৮৮ জন নিহত হয়েছে। এ মাসে ১১১টি বাস, ১০৩টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ৪৭টি হিউম্যান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

এপ্রিল মাসে ৫৬৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫৭৬ জন আহত ৬০১ জন নিহত হয়। এই মাসে ১০৪টি বাস ১০২টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ৮২টি হিউম্যান হলার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
মে মাসে ৫৭৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২০৪৬ জন আহত ৭৩৮ জন নিহত হয়। এ সময় ০৯১টি বাস, ৩১৫টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ২৪টি হিউম্যান হলার দুর্ঘটনায় কবলিত হয়।
জুন মাসে ৫০৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮৩৬ জন আহত ও ৬৮৯ জন নিহত হয়েছে। এ মাসে ৭০টি বাস, ১৯৫ টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৫৬ টি হিউম্যান হলার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

জুলাই মাসে ৪২৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৩২ জন আহত ও ৫০৩ জন নিহত হয়। এ মাসে ৯৫টি বাস ৮৪টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৪২টি হিউম্যান হলার,৫৯টি নছিমন করিমন সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

আগস্ট মাসে ৪৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬২ জন নিহত ও ১৬০৬ আহত হয়। এ মাসে ৮৬টি বাস, ৭৮টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৮২টি হিউম্যান হলার, ১২৩টি অটোরিক্সা, ৪৫টি কার ও মাইক্রোবাস, ৮৪টি মোটরসাইকেল, ৬২টি ব্যাটারি চালিতরিক্সা, ৬৮টি নছিমন করিমন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

সেপ্টেম্বরে ৪০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬০২ জন নিহত ও ১০০৭ আহত হয়। এ মাসে ৮৮টি বাস, ১০৩টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৪৮টি হিউম্যান হলার, ৬২টি নছিমন করিমন সড়ক দুর্ঘটনার কবলিত হয়।

অক্টোবরে ৩৯৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১২ জন নিহত ও ১২২৪ আহত হয়। এ মাসে ৮২টি বাস, ৬৬টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৯৮টি হিউম্যান হলার ১৩১টি নছিমন করিমন সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

নবেম্বর মাসে ৫০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৮ জন নিহত ও ৯৬৯ আহত হয়। এ মাসে ১০৩টি বাস, ৫৮টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৫৬টি হিউম্যান হলার,৮৯টি নছিমন করিমন সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

ডিসেম্বর মাসে ৪৪১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯৬ জন নিহত ও ১১০৭ আহত হয়। এ মাসে ১৬০টি বাস, ১০২টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ২৩টি হিউম্যান হলার ৪৩টি নছিমন করিমন সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এসব দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ৫৩ ভাগ শহর এলাকায় ২৬ ভাগ গ্রাম বা ফিডার রোডে ২১ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। তবে শহর ও গ্রামে হাট বাজারে ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীর মৃত্যুর হার ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়াও এসব দুর্ঘটনায় নিহতের প্রায় ৫৩ ভাগই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

পাতাটি ৩৪৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন